TuqTaq.Card স্ক্যান

হোম / ব্লগ

বিজনেস কার্ড স্ক্যান করে Excel এ নেওয়ার সহজ উপায়

প্রকাশিত: 2026-11-03

মেলা শেষ। ব্যাগে একগাদা কার্ড। চল্লিশটা, কারো কারো ক্ষেত্রে একশোটা। মনে মনে ভাবছেন, সোমবার সব টাইপ করে ফেলবেন।

সোমবার আসে, কার্ডগুলো পড়ে থাকে। বুধবার নাগাদ দুইটা কার্ড হারিয়ে যায়। কে যে কফির দাগওয়ালা কার্ডটা দিয়েছিল, আর মনে নেই।

সমাধানটা সহজ। আপনাকে টাইপ করতে হবে না। দরকার শুধু একটা স্ক্যানার, যা কার্ডের তথ্য সরাসরি স্প্রেডশিটে বসিয়ে দেবে।

হাতে টাইপ করার সমস্যা

দ্রুত হাতে চল্লিশটা কার্ড টাইপ করতে দুই ঘণ্টা লাগে। সেই দুই ঘণ্টা আপনার সন্ধ্যার। তার উপর ভুল হবেই। একটা ডিজিট ভুল হলে নম্বরটা দেখতে ঠিক লাগে, কিন্তু কল করলে অচেনা কেউ ধরে।

আসল ক্ষতি অন্য জায়গায়। মানুষটাকে মনে আছে, কিন্তু কেন ফলোআপ করবেন সেটা মনে নেই। কার্ডটা ড্রয়ারে চলে যায়। ভালো লিডগুলো ঠিক ওখানেই মরে।

কার্ডটা ওখানেই স্ক্যান করে ফেলুন

বুথে দাঁড়িয়েই করুন। হলওয়েতে করুন। সামনের মানুষটার সাথে কথা বলতে বলতেই করে ফেলুন। কয়েক সেকেন্ডের কাজ। সন্ধ্যাটা বেঁচে গেল।

TuqTaq Card চলে ফোনের ব্রাউজারে। ইনস্টল করার কিছু নেই, সাইন-ইনও লাগে না। খুলুন, ক্যামেরা কার্ডের দিকে ধরুন, ফিল্ডগুলো পড়ে নেবে। নাম, ফোন, ইমেইল, কোম্পানি সব।

এক্সপোর্টের আগে ফিল্ডগুলো দেখে নিন

এই অংশটা গুরুত্বপূর্ণ। স্ক্যানার ভালো, কিন্তু নিখুঁত নয়। কারো কারো কার্ডে আজব ফন্ট। কেউ ফোন নম্বর ছোট ধূসর লেখায় ছাপে। কেউ পদবি এমন জায়গায় লেখে, মানুষ পড়তে পারে কিন্তু মেশিনকে আন্দাজ করতে হয়।

তাই প্রতি কার্ডে পাঁচ সেকেন্ড দিন। নাম দেখুন, ইমেইল দেখুন। যা সন্দেহ হচ্ছে ঠিক করে নিন। এখন পাঁচ সেকেন্ড খরচ করলে পরে একটা ইমেইল ফেরত আসবে না।

কেউ বাংলায় কার্ড দিলে সেটাও পড়ে। একই নিয়ম।

Excel বা CSV ফাইলে এক্সপোর্ট

স্ক্যান আর চেক শেষ হলে এক্সপোর্ট করে ফেলুন। প্রতি কার্ডের জন্য এক লাইন: নাম, কোম্পানি, ফোন, ইমেইল। Excel বা Google Sheets এ খুলুন। সাজান, ফিল্টার করুন। একটা কলাম যোগ করুন নোটের জন্য, আরেকটা ফলোআপ তারিখের জন্য।

এখন আপনার হাতে এমন একটা লিস্ট আছে, যা ড্রয়ারের কার্ডের গাদা কখনো দিতে পারবে না। সার্চ করা যায়।

ফোনে কন্ট্যাক্ট থাকলে Excel কেন?

সত্যি কথা বলি, ফোনের কন্ট্যাক্টে কার্ড ঢুকে হারিয়ে যায়। সেভ করেন "এক্সপোরের রহিম"। ছয় মাস পরে স্ক্রল করতে করতে তার নাম দেখে কিছুই মনে হয় না। স্প্রেডশিট আলাদা ব্যাপার। বসে পুরো লিস্টটা দেখেন, তারপর ঠিক করেন আজ রাতে কাকে মেসেজ দেবেন।

দুটোই ব্যবহার করুন। কল করার জন্য কন্ট্যাক্ট, ভাবার জন্য শিট।

ফলোআপের একটা সহজ কৌশল

এক্সপোর্টের পর পাঁচজনকে বাছুন। চল্লিশজনকে নয়, পাঁচজনকে। প্রত্যেককে ছোট একটা মেসেজ দিন, যেখানে দেখা হওয়ার জায়গাটা থাকবে। "এক্সপোতে আপনার প্যাকেজিং সাপ্লায়ার নিয়ে কথা হয়েছিল।" এই একটা লাইন যেকোনো টেমপ্লেটের চেয়ে বেশি কাজ করে।

পরের ইভেন্টে নিজের কার্ড দিতে চাইলে একটা My card পেজ আছে, QR কোড সহ। WhatsApp বা SMS এ পাঠিয়ে দিন, কাগজের ঝামেলাই নেই।

এখন সবটা ফ্রি। মালিক যতদিন চালাতে পারবেন, ততদিন। একজনের জিনিস, তাই চিরকালের প্রতিশ্রুতি নেই। পরের কার্ডের গাদাটা দিয়ে একবার চালিয়ে দেখুন।

দ্রুত উত্তর

Excel এ নিতে অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে?

না। ফোনের ব্রাউজারেই চলে। পেজ খুলুন, ক্যামেরা ব্যবহার করুন, শেষে এক্সপোর্ট করুন। ডাউনলোড নেই, স্ক্যান করতে সাইন-ইনও লাগে না।

এক্সপোর্টের আগে তথ্য এডিট করা যাবে?

যাবে, এবং করা উচিত। স্ক্যানের পর নাম, ফোন, ইমেইল আর কোম্পানি দেখে নিন। ভুল থাকলে ঠিক করে নিন, তারপর এক্সপোর্ট। প্রতি কার্ডে কয়েক সেকেন্ডের কাজ।

এক্সপোর্টে কী ফাইল পাওয়া যায়?

Excel বা CSV ফাইল, যেখানে প্রতি কার্ডের জন্য এক লাইন থাকে। Excel বা Google Sheets এ খুলে সাজাতে পারেন, ফিল্টার করতে পারেন, নিজের নোটের কলাম যোগ করতে পারেন।

কার্ড স্ক্যান করুনফ্রি, স্ক্যান করতে সাইন-ইন লাগে না।

Read in English